লক্ষ্মীপুরে স্ত্রী-কন্যার বিরুদ্ধে স্বর্ণ-নগদ টাকা লুট ও শিশু বিক্রির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
অভিযুক্ত জাহানারা বেগম ওরফে হাসিনা বেগম ও তাঁর মেয়ে মরিয়ম বেগম। ছবি: অভিযোগপত্র থেকে সংগৃহীত
অভিযুক্ত জাহানারা বেগম ওরফে হাসিনা বেগম ও তাঁর মেয়ে মরিয়ম বেগম। ছবি: অভিযোগপত্র থেকে সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঞ্ছানগর এলাকায় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে উধাও হওয়া এবং এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির স্ত্রী, সৎকন্যা ও তাদের সহযোগী এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ন্যায়বিচার চেয়ে গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী লেদু মিয়া ওরফে বাবুল (৫৭)।

অভিযোগকারী লেদু মিয়া রামগঞ্জ উপজেলার বাঁশঘর (২নং ওয়ার্ড) গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ঝাড়ুদার কর্মী হিসেবে কর্মরত এবং সদর থানাধীন বাঞ্ছানগরের দোকলা বাড়িতে বসবাস করেন।

অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম ওরফে হাসিনা বেগম (৪৮), জাহানারা বেগমের কন্যা মরিয়ম বেগম (১৮) এবং একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারী অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে। বিবাদীদের ঠিকানা রামগঞ্জের উত্তর বাহাদুর (৩নং ওয়ার্ড) এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের কদমতলী থানাধীন খানকা শরীফ রোড (ওয়ার্ড নং-৬৫, ডি-ব্লক) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে লেদু মিয়া জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি জাহানারা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগেই জাহানারার দুটি সন্তান ছিল। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার ভালো চললেও পরবর্তীতে স্ত্রীর বিভিন্ন অপকর্মের বিষয়ে তিনি জানতে পারেন। নিষেধ করলেও স্ত্রী তাতে কর্ণপাত করেননি। অভিযোগকারীর দাবি, অজ্ঞাতনামা তৃতীয় বিবাদীর ইন্ধনে ১ ও ২ নং বিবাদী দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে ও একাধিক সিম ব্যবহার করে চলাফেরা করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে লেদু মিয়া ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বিবাদীরা তাঁর ঘরে থাকা প্রায় ১ ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ২০ হাজার টাকা) ও ব্যবসার নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তাঁর প্রথম সংসারের নাতি রবিউল আউয়াল (৭)—যে সে সময় দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল—এবং মরিয়ম বেগমের এক মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে তারা নারায়ণগঞ্জের কদমতলী এলাকায় চলে যায়।

পরবর্তীতে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি নাতি রবিউলকে উদ্ধার করেন বলে দাবি করেন লেদু মিয়া। ওই ব্যক্তির মাধ্যমেই তিনি জানতে পারেন, বিবাদীরা শিশুটিকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিল। অভিযোগকারীর ভাষ্য, এ বিষয়ে তৃতীয় বিবাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হুমকি দেন—পুনরায় যোগাযোগ করলে বা তাদের কাজে বাধা দিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে।

অভিযোগে সাক্ষী হিসেবে বাঞ্ছানগরের রায়হান, রোজিনা আক্তার ও সোহেল রানা এবং নারায়ণগঞ্জের কদমতলীর আজাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

লেদু মিয়া বলেন, "হুমকির মুখে এলাকার লোকজনের পরামর্শে ন্যায়বিচারের আশায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। আমি আমার নাতি ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই।"

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত