জ্বালানি সংকটেও কাটছাঁট নয়, বলছে জাপান

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: Online
ছবি: Online

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কোনো ধরনের কাটছাঁট বা অতিরিক্ত বাজেটের পথে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানানোর সময় নয়, বরং অর্থনীতির গতি ধরে রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, জ্বালানি কম ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার বিভিন্ন প্রস্তাব এলেও তা গ্রহণের কোনো পরিকল্পনা নেই। তার মতে, এই সময় অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীর করার সুযোগ নেই। তাই বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে জাপান সরকার জানিয়েছিল, এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের শুরু পর্যন্ত ‘গোল্ডেন উইক’ ছুটির সময়ও সাধারণ মানুষ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হবে না। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

অন্যদিকে, একই পরিস্থিতিতে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিরোধীদের অতিরিক্ত বাজেটের দাবি নাকচ করে তাকাইচি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান ব্যবস্থাই যথেষ্ট। তিনি বলেন, ২০২৫ অর্থবছরের জরুরি তহবিল থেকে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে ২০২৬ অর্থবছরের তহবিলও ব্যবহার করা হবে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও জাপান বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে। মে মাসের জন্য সংগৃহীত তেলের একটি বড় অংশ ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে আনা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সরকার।

শিল্পমন্ত্রী রিওসেই আকাজাওয়া জানিয়েছেন, বছরের শেষ পর্যন্ত জাপানের তেল সরবরাহ নিশ্চিত রাখার মতো প্রস্তুতি রয়েছে।

এছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল খাতেও নজর রাখছে সরকার। বিশেষ করে ন্যাফথা সরবরাহ নিয়ে কিছু উদ্বেগ থাকলেও, পরিশোধন কার্যক্রম চালু রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে ন্যাফথা থেকে উৎপাদিত পণ্যের মজুত প্রায় দুই মাসের চাহিদা পূরণে সক্ষম, যা অন্তত ছয় মাস উৎপাদন সচল রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত