ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২ হাজার ৫৭১–এ পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে ১২টি শিশুও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ বুধবার ভোরে এই তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তাদের কাছে থাকা তথ্যানুযায়ী নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪৭ জন সরকারসংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
সংগঠনটি আরও জানায়, নিহতদের মধ্যে এমন ৯ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন, যাঁরা সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নেননি। এ ছাড়া চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরবর্তীতে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বিদেশি শত্রুপক্ষ এই বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে।
বিক্ষোভ শুরুর পর দেশটিতে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয়ই রয়েছেন।
নিহতের এই সংখ্যা গত কয়েক দশকে ইরানে সংঘটিত যেকোনো বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়কার মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এবারের বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময়কার অস্থিরতার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।
যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, টানা কয়েক রাতের বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এদিকে রাজধানী তেহরানে নিহতদের জন্য গণজানাজা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সাহায্য আসছে।