প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নে কাজ করছে। এই ব্যবস্থায় পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক, রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিও পাঠ সংযুক্ত থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ও বাইরে সমানভাবে শেখার সুযোগ পায়।
রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ২০২৮ সালের জন্য যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ করছে। বর্তমানে যে পাঠ্যবইগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাত্ত্বিক শিক্ষার তুলনায় ব্যবহারিক শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবজীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও শক্তিশালী করা হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে তারা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও জাতীয় পরিচয় সম্পর্কে জানার পাশাপাশি সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, দলগত কাজ এবং সুস্থ জীবনাচারের চর্চা গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় এমন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হবে, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলা। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।