বোরো মৌসুমে ১৮.৫ লাখ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ১৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান, চাল ও গম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে তিনি বলেন, আগামী ৩ মে থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে ধান ও চালের সংগ্রহমূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। সিদ্ধ চালের ক্ষেত্রে ৪৯ টাকা এবং আতপ চালের ক্ষেত্রে ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সংগ্রহ মৌসুমে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন। তবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কম এবং কৃষকদের অনাগ্রহের কারণে গম সংগ্রহে অতীতে প্রত্যাশিত সাফল্য পাওয়া যায়নি বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, দেশে মোট খাদ্যশস্যের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন গড়ে ৭০ থেকে ৭২ লাখ মেট্রিক টন। ঘাটতি পূরণে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করে, যা সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি অথবা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে নিরাপদ মজুদের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন। ভবিষ্যতে এই মজুদ বাড়িয়ে ২৪ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলতি মৌসুমে সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানিও বাড়ানো হতে পারে। পরিস্থিতি ও চাহিদা অনুযায়ী সংগ্রহ ও মজুদের লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করা হবে।

সম্পর্কিত