যুদ্ধের মাঝেও স্থিতিশীল জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশে

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে তেলের দাম বাড়ালেও বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত দাম বাড়ায়নি। এটি নিঃসন্দেহে দেশের মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক খবর। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক কোনো বড় সংকট বা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী না হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা আপাতত নেই।

১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইরান ও ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত ১৫তম দিনে গড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে জ্বালানি তেলের মূল্য আগের অবস্থায় রেখেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি জনগণকে বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের মানুষও এসব নির্দেশনা অনুসরণ করে সরকারকে সহযোগিতা করেছে বলেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং আপাতত তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেই। যুদ্ধের আগে ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা। ১৪ মার্চ পর্যন্ত সেই দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। একইভাবে অকটেনের দাম ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা লিটারেই বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে বিশ্বের অনেক দেশে তেলের দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে। ইউরোপের স্পেন, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পেনে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম এখন ১.৭৯ ইউরো, যা আগের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।

আয়ারল্যান্ডে যুদ্ধের আগে ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ১.৮২ ইউরো, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৩ ইউরোতে। যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে লিটারপ্রতি দাম ১.৭৫ ইউরো থেকে বেড়ে ২.১১ ইউরো হয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৯৬ থেকে ৩০০ টাকার কাছাকাছি।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও তেলের দামে বৃদ্ধি দেখা গেছে। চীনে সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকলেও ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চ পর্যন্ত জ্বালানির দাম প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তানে পরিস্থিতি আরও কঠিন। সেখানে পেট্রোলের দাম ২৬৬.১৭ রুপি থেকে বেড়ে ৩২১.১৭ রুপি হয়েছে। ডিজেলের দাম ২৮০.৮৬ রুপি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫.৮৬ রুপিতে।

আফ্রিকার দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। জিম্বাবুয়েতে পেট্রোলের দাম ১.৬৮ ডলার থেকে বেড়ে ২.১০ ডলারের বেশি হয়েছে। নাইজেরিয়াতেও পেট্রোলের দাম ৬৭০ নায়রা থেকে বেড়ে ৮৫০-৯০০ নায়রায় পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA) তাদের মার্চ ২০২৬ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এটিই মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

সব মিলিয়ে বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। সঠিক নীতিগত সিদ্ধান্ত, সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতাই এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত