এনসিপি জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বের সঙ্গে একাকার: এ্যানি

স্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুরে জেলা বিএনপির আয়োজিত জুলাই সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ
লক্ষ্মীপুরে জেলা বিএনপির আয়োজিত জুলাই সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, যারা স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল, তারাই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো বেয়াদবদের সৃষ্টি করেছে। তাদের কারণেই দেশে বেয়াদব ও অশালীন রাজনৈতিক বক্তব্যের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বিকেলে লক্ষ্মীপুরে জুলাই সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপির ব্যানারে শহরের এন আহম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিরোধী দলে একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে—এমন বক্তব্য তিনি বিশ্বাস করেন না। তার মতে, দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হলো জামায়াত-শিবির।

তিনি অভিযোগ করেন, নতুন ছাত্রসংগঠন থেকে জাতীয় রাজনীতিতে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বাইরে দুটি প্রধান রাজনৈতিক ধারা রয়েছে। একটি জামায়াত-শিবিরের ধারা এবং অন্যটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী ধারা।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ প্রতিনিয়ত বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন ও রুচিহীন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে। তবে দেশের মানুষ এখনো ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ধৈর্যের সীমা এখনো অতিক্রম করেনি। কারণ বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছে।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি শুরু হয়েছে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে। এটি একটি উদারপন্থি ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলের নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও নিয়মনীতি রয়েছে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো কেউ যদি অশালীন, রুচিহীন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা ব্যবহার করতে চান, তাহলে বিএনপিতে তার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপি বিভিন্ন সময়ে অনেক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার ও দল থেকে বাদ দিয়েছে।

এ্যানি দাবি করেন, বিএনপিতে কোনো ধরনের বেয়াদবি বা অশালীন আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে বিএনপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ শুধু জুলাইয়ের আন্দোলনকে বিভক্ত করেনি, বরং বাংলাদেশের রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের মধ্যেও বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

তার অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরিয়েছে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে।

২০২৩ সালের ১৮ জুলাই লক্ষ্মীপুরে কৃষকদল নেতা সজীব হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে মন্ত্রী প্রশ্ন করেন, সে সময় বর্তমানের অনেক রাজনৈতিক দাবিদার কোথায় ছিলেন।

তিনি বলেন, ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন ও ৩৬ দিনের আন্দোলনে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা জনগণের সামনে স্পষ্ট। তার দাবি, অনেকে ৫ আগস্টের পর নিজেদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা প্রকৃত আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, হারুনুর রশিদ বেপারী এবং লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

সম্পর্কিত