মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন কি শাহাদাত হোসেন সেলিম

স্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া। নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে - এমন আলোচনা এখন তুঙ্গে।

নির্বাচনের পর থেকেই রামগঞ্জ সহ পুরো লক্ষ্মীপুর জেলায় আলোচনা চলছে, তারেক রহমান এর নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে শাহাদাত হোসেন সেলিমকে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনে শাহাদাত হোসেন সেলিম ছিলেন আপসহীন ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের প্রতীক। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে টেলিভিশন টকশো পর্যন্ত সর্বত্র তার সরব উপস্থিতি তাকে পরিচিত করে তোলে দেশজুড়ে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারির একজন সংগঠক, যা দলের ভেতরে ও বাইরে তাকে এনে দেয় আলাদা গ্রহণযোগ্যতা।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ঐক্যের স্বার্থে তিনি নিজের দল বাংলাদেশ এলডিপি বিলুপ্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত তার দূরদর্শিতা ও ত্যাগী নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি তাকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই আসনের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে শাহাদাত হোসেন সেলিমের প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের মতে, এই বিজয় দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের স্বীকৃতি। জয়ের পরপরই শুরু হয় তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, বিগত ১৬ বছরের দমন-পীড়নের মধ্যেও মাঠ না ছাড়ার কারণে শাহাদাত হোসেন সেলিম দলের হাইকমান্ডের কাছে একজন পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে পরিচিত। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার নিয়ে তার সুস্পষ্ট অবস্থান তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার যুক্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এলাকার এক দলীয় কর্মী বলেন, সময় এসেছে রাজপথের এই নেতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুরের এই নেতার রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত হয় কি না নতুন কোনো অর্জন।

সম্পর্কিত