দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, পঞ্চগড়, নাটোর ও ময়মনসিংহে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সময় মাঠে কাজ করা, গরু আনতে যাওয়া কিংবা আম কুড়ানোর সময় বজ্রাঘাতে তারা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। শিবগঞ্জ উপজেলার তিনজন নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মরিচ ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার মা মনিকা বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে ট্রাক্টরের চাকা তোলার জন্য বেলচা আনতে গিয়ে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান মো. মধু (২৪) নামে এক যুবক।
ময়মনসিংহে পৃথক দুই ঘটনায় মারা গেছেন কলেজশিক্ষক এএসএম খালেকুল আজাদ (৫৬) এবং সিয়াম (১৮)। মুক্তাগাছায় মসজিদ নির্মাণকাজ তদারকির সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে শিক্ষক আজাদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গফরগাঁও উপজেলায় কৃষিকাজ করার সময় বজ্রাঘাতে নিহত হন সিয়াম।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে অবস্থান এবং উঁচু স্থানে চলাচল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।