চামড়া শিল্পের সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি নিশ্চিত করা গেলে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব বলে জানিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের সংগৃহীত সব চামড়া সারা বছর সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা গেলে চামড়া খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপন্ন হওয়া শিল্পের জন্য আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার সুবিধাসম্পন্ন এলাকা প্রয়োজন।
তবে ট্যানারি স্থানান্তর প্রক্রিয়া ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলাপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর ফলে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে এবং খাতটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
মন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কার্যক্রম উন্নয়নে ইতালির সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে সিইটিপির দৈনিক শোধনক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও পিক টাইমে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সরকার বর্তমানে দুটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি হলো সিইটিপিকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। অন্যটি হলো ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণসংকটে থাকা চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা।
পরিদর্শন শেষে তিনি শিল্পনগরীর বিভিন্ন ট্যানারি কারখানা ঘুরে দেখেন এবং শিল্প মালিকদের সঙ্গে উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন-এর চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।