জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তস্নাত চেতনাকে ধারণ করে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে নতুন করে কেউ যেন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী যেন রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আবারও স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না। দেশের যেকোনো সংকট ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য রাজপথে নয়, বরং জাতীয় সংসদে আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান শিখিয়েছে, ঐক্যবদ্ধ মানুষের শক্তির কাছে অন্যায় ও নিপীড়নের পতন ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন দেশে একটি সত্যিকারের ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এ সময় তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এবং ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তরুণ প্রজন্মের সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নতুন স্বাধীনতার পথে এগিয়েছে। নতুন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও খুনের কোনো স্থান থাকবে না।
তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নস্যাৎ করার যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোর এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।