দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সরকার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে সেচব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও পল্লীকেন্দ্রিক। শহর এগিয়ে গেলেও গ্রাম পিছিয়ে থাকলে প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার পল্লী উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১২ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। পাশাপাশি ‘ফার্মার কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি উপকরণ, ঋণ, কৃষি বীমা ও বাজারসুবিধা পাবেন। এছাড়া নিম্নআয়ের নারীপ্রধান পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় মাসিক আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে গ্রামগুলোকে প্রশাসন, অবকাঠামো ও জনসেবার কার্যকর কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবসের এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রথমবারের মতো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) উদ্যোগে সিরডাপ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর ৬ জুলাই বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সিরডাপ গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে এবং দিবসটির জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জনের উদ্যোগেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে সিরডাপ আঞ্চলিক সংহতি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সংস্থাটি এ পর্যন্ত ২১৫টি গবেষণা কর্মসূচি, ৩৫০টি সক্ষমতা উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে এবং আট হাজারের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি অংশীজনের কাছে পৌঁছে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর, খাদ্য নিরাপত্তা ও যুব বেকারত্বের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিরডাপ জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া আরও ৪০টি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (পিআইডিএফ) সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংস্থাটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী বলেন, স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সিরডাপের কার্যক্রমে সহযোগিতা করাকে দায়িত্ব ও গৌরব—উভয় হিসেবেই বিবেচনা করে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।