সরকার ব্যর্থ হলে দেশে কেউ বাস করতে পারবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে দেশে কেউ নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে বাস করতে পারবে না। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অনিয়ম বা অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম অব্যাহত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি থেকে অব্যাহতি বা সাময়িক বরখাস্তের মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার এতদিন ধৈর্য ও নমনীয়তার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। তবে এখন থেকে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার তার অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, দেশের সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মচারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি রোগীদের সমস্যা ও অভিযোগ শোনেন। পাশাপাশি হাসপাতালের রান্নাঘর, শৌচাগার, সংরক্ষণকক্ষ ও অস্ত্রোপচার কক্ষ পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সামনে থাকা দুটি বেসরকারি ক্লিনিক ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন তিনি। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র না থাকা এবং স্বাভাবিক প্রসবসেবা না থাকায় ‘মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক’ সিলগালা করা হয়।

একই ধরনের অনিয়মের কারণে ‘পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক সেন্টার’ সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ ছাড়া সরকারি কর্মঘণ্টায় বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে অস্ত্রোপচার করানোর প্রমাণ পাওয়ায় দুই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিদর্শনে ক্লিনিক দুটির প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবসেবার ব্যবস্থাও ছিল না। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম রাফসান রাব্বিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত