পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা গেলে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার রোধ করা সম্ভব। এতে দেশের নিজস্ব সম্পদ দিয়েই বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর বুয়েটের কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের স্বার্থে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে দৃশ্যমান ও সফল করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বন্যার আগাম পূর্বাভাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার সম্ভব।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে তা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বর্তমান সরকার জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে এবং বিভিন্ন খাতে আধুনিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে।
তিনি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী ও গবেষকদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরা এ বিষয়ে কাজ করেছেন। নানা কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলেও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি জানান, সমীক্ষা পর্যালোচনা শেষে সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে পদ্মা ব্যারাজ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও সরকারের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার জন্য তিস্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা সমজাতীয় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তি, গবেষণা ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও পরিবেশ খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।