মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ও সারের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়ের মধ্যে জ্বালানি তেলে প্রায় ১০ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, গ্যাসে ১১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, বিদ্যুতে ১৯ হাজার ৮২১ কোটি টাকা এবং সারে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি বলেন, এ অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার সাধারণ জনগণ, কৃষি ও উৎপাদন খাতকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তাৎক্ষণিক ও সম্ভাব্য উভয় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর প্রভাব বর্তমানে জ্বালানি, সার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বেশি দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় ও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ, পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পরোক্ষভাবে বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।