লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চার সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। আহত চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় দুই দিন ধরে থানায় ঘুরলেও তাদের মামলা বা লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব অভিযোগ করেন তারা।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তারার বাপের বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহতরা হলেন দ্বীন মোহাম্মদ, তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম, কলেজপড়ুয়া ছেলে রাজীব হোসেন এবং পুত্রবধূ রুমি আক্তার। তাদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আবু তাহের, বিল্লাল, শাকিলসহ তাদের লোকজন হামলা চালান।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আবু তাহেরের সঙ্গে দ্বীন মোহাম্মদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজীব হোসেনকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার মা-বাবা ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী রুমি আক্তারও হামলার শিকার হন। এ সময় তাদের বসতঘরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
দ্বীন মোহাম্মদের মেজো ছেলে শরীফ হোসেন বলেন, তার মা-বাবা, ছোট ভাই ও বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। দুই দিন ধরে থানায় ঘুরেও মামলা করা হয়নি। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে এজাহার লিখিয়ে নিলেও পরে তা নথিভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজীব হোসেন বলেন, তাদের ওপর হামলা হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পার হলেও থানায় মামলা নেওয়া হচ্ছে না। তিনি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে নয়। ছোট শিশুদের কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে এবং এতে দুই পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল আলমের কাছে ভুক্তভোগীদের মামলা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন করার কথা বলেন। পরে এ বিষয়ে আর কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।