দেশে দুর্নীতি দমনে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইশারায় সবকিছু চললে দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না কেন?
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা পাঁচ মাসের সরকারের সময়েও দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন। বরং দুর্নীতি বেড়েছে বলেও ওই বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে জড়িত। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি চান না, তারপরও সবাই কীভাবে দুর্নীতি করছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইশারায় সবকিছু পরিচালিত হলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না কেন? এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার নিজেই দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চাঁদাবাজির জন্যও বিএনপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, সরকার চাঁদাবাজি কমানোর চেষ্টা করছে বলে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা চাঁদাবাজিকে এক ধরনের স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল।
তিনি বলেন, এক কোটি থেকে দেড় কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হলেও অনেকেই অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পরিবহন স্ট্যান্ড ও টেম্পোস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকাকে চাকরি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দেশের জনগণ এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ঘৃণা করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবহন শ্রমিকদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবহন খাত গড়ে তুলতে হলে চাঁদাবাজিমুক্ত নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের সামনে নতুন কোনো সংকট সৃষ্টি করা হলে ইতিহাসে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে কোনো পক্ষ চললে জামায়াতে ইসলামী তাদের সমালোচনা করবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াত কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না।
জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে তিনি বলেন, দলটি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রাখে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও সরকারকে সতর্ক করেন জামায়াত আমির।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল এককভাবে দাবি না করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এ অভ্যুত্থান কারও একার নয়। শহীদরাও কোনো দলের সম্পদ নন, তারা পুরো জাতির সম্পদ।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। অনেক আহত ও পঙ্গু ব্যক্তি এখনো কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এবং অনেকে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তাদের প্রাপ্য সম্মান ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবহন খাত গড়ে তুলতে হলে আগে চাঁদাবাজিমুক্ত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নেতৃত্ব চাঁদাবাজিমুক্ত হলে দেশ থেকেও চাঁদাবাজি দূর করা সম্ভব।
বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিমসহ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।