দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কারিগরি শিক্ষার প্রসারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও বিস্তৃত করা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে। যা দেশের উন্নয়ন, শিল্প বিকাশ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) সোশ্যাল গার্ডেন সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত ‘দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভূমিকা, সম্ভাবনা ও সমস্যা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ শিক্ষক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. ফয়েজুল বারী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি ছিল কারিগরি শিক্ষার বিস্তার। দেশটি মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করেছে, যার সুফল শিল্প ও অর্থনীতিতে পেয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্তমানে দেশে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই প্রতিটি উপজেলায় এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।
উপদেষ্টা বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটলে শিক্ষার্থীরা দক্ষতা অর্জন করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক বা পারিবারিক কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। তারা যদি কোনো কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে বের হতে পারে, তাহলে বেকারত্বের ঝুঁকি কমবে। দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান, রেফ্রিজারেশন টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পেশার কর্মীরা সহজেই আয় করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন।
রিজভী বলেন, কারিগরি জ্ঞানের অভাব মানুষকে বিভিন্ন ঝুঁকি ও শোষণের মুখে ফেলে। প্রযুক্তি সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকলে দৈনন্দিন জীবনেও অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, বিদেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি অদক্ষ বা স্বল্পদক্ষ হওয়ায় প্রত্যাশিত আয় করতে পারেন না। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানো গেলে তারা ভালো কর্মসংস্থান ও বেশি আয় নিশ্চিত করতে পারবেন। এতে রেমিট্যান্স বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সেমিনারে বক্তারা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট দূর করা, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের দাবি জানান।