২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর প্রধান কোচের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন রবার্তো মার্টিনেজ। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ম্যাচ শেষে মার্টিনেজ বলেন, পরাজয় সত্ত্বেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি গর্বিত। তার ভাষায়, খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং বিশ্বকাপে এটিই ছিল পর্তুগালের অন্যতম সেরা ম্যাচ।
তিনি বলেন, “খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। তারা হৃদয় উজাড় করে খেলেছে। প্রথমার্ধে নুনো মেন্ডেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বলটি জালে জড়ালে ম্যাচের গল্প ভিন্ন হতে পারত। আমার বিশ্বাস, অন্তত অতিরিক্ত সময়ে খেলার যোগ্য ছিলাম।”
মার্টিনেজ আরও বলেন, তার দল পুরো ম্যাচে দারুণ রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা ও আগ্রাসী ফুটবল খেলেছে। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট স্পেনের বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না।
ডিএজেডএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেন, ম্যাচের ন্যায্য ফল ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে যাওয়া উচিত ছিল। তবে প্রথম স্পষ্ট সুযোগ থেকেই গোল করে স্পেন জয় নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি।
স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে নিয়েও মন্তব্য করেন মার্টিনেজ। তিনি বলেন, নুনো মেন্ডেস এবং পরে নেলসন সেমেদো ইয়ামালকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তবে আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে পর্তুগাল।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে নিজের বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে মার্টিনেজ বলেন, “আজ আমার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়েই একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। এখন দলের জন্য নতুন কণ্ঠস্বর প্রয়োজন। আমি পর্তুগালকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার স্বপ্ন নিয়েই দায়িত্ব নিয়েছিলাম। যেহেতু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারিনি, তাই আর দায়িত্বে থেকে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই।”
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পর্তুগালের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন রবার্তো মার্টিনেজ।
এদিকে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তার উত্তরসূরি হিসেবে অভিজ্ঞ কোচ হোর্হে হেসুসকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।