নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। এই হারের পর সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে পেনাল্টি নেওয়ার জন্য ব্রুনো গিমারেসকে বেছে নেওয়া, শুরুর একাদশ নির্বাচন এবং দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
তবে সমালোচনার জবাবে ইতালীয় এই কোচ জানিয়েছেন, দলের খেলার গতি ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর লক্ষ্যেই তিনি কৌশলগত পরিবর্তন করেছিলেন।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি মনে করি, কিছু দিক থেকে এটি একটি ভালো ম্যাচ ছিল। স্কোর ০-০ থাকা অবস্থায় আমরা গোল করার বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় নতুন গতি এনে জয়ের চেষ্টা করতেই আমি পরিবর্তনগুলো করেছিলাম।’
পেনাল্টি নেওয়ার জন্য ব্রুনো গিমারেসকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তেরও ব্যাখ্যা দেন ব্রাজিল কোচ। তিনি জানান, গত এক বছর ধরে ব্রাজিলের কারিগরি দল খেলোয়াড়দের পেনাল্টি নেওয়ার দক্ষতা নিয়ে গাণিতিক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ করেছে।
আনচেলত্তির ভাষ্য অনুযায়ী, সেই তালিকায় সেরা পেনাল্টি শ্যুটার ছিলেন নেইমার। এরপর ছিলেন ইগর থিয়াগো, রাফিনিয়া এবং চতুর্থ স্থানে ব্রুনো গিমারেস। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ছিলেন তার পরেই। সে কারণে মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্রুনোকেই সেরা বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
বিশ্বকাপ থেকে এমন বিদায়ে গভীর হতাশার কথাও জানান আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই কষ্টের। তবে একটি পরাজয় মানেই সবকিছুর শেষ নয়। অনেক সময় হার থেকেই নতুন অভিযানের শুরু হয়। আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে, ভুল শুধরে আরও উন্নতি করতে হবে। আমি এটিকে একটি নতুন চক্রের সূচনা হিসেবে দেখছি।’
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতের দল গঠনের পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বর্তমান দলে থাকা মেধাবী তরুণদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ফুটবলারদেরও মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে আরও শক্তিশালী ব্রাজিল দল গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য।