শীতে পানিশূন্যতা রোধে গরম পানি পানের উপকারিতা

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গরমের সময় সামান্য পরিশ্রমেই তেষ্টা লাগে। ফলে তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বেশি পানি পান করে। তবে শীতকালে তেষ্টা কম অনুভূত হওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন। এতে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়।

শীতের সময় এমনিতেই শরীরের আর্দ্রতা কমে যায়। পর্যাপ্ত পানি না পান করলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভূত হওয়া, হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, মানবদেহের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ পানি দিয়ে গঠিত। তাই সারা বছরই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

তবে পানির চাহিদা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বয়স, লিঙ্গ ও দৈনন্দিন কাজের ধরন অনুযায়ী পানির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
নারীদের প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা ভারী কাজ করেন, তাদের জন্য ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি উপকারী। পুরুষদের জন্য দৈনিক ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি যথেষ্ট হলেও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমকারীদের ১০ থেকে ১৪ গ্লাস পর্যন্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

শীতে অনেকেই ঠান্ডা পানি পান করতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে প্রয়োজনীয় পানি পান করা হয় না। এ ক্ষেত্রে গরম পানি হতে পারে কার্যকর সমাধান। হালকা গরম পানি পান করলে শরীর ঠান্ডা পানি পানের তুলনায় বেশি উপকার পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত গরম পানি পান করলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমতে সহায়তা করে। প্রতিদিন এক গ্লাস গরম পানিতে মধু, আদা ও লেবু মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়। গরম পানি পান করলে ঘাম হয় এবং ঘামের মাধ্যমে শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের হয়ে যায়।

এ ছাড়া খাবারের পর গরম পানি পান করলে গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা কমে। এটি দেহে রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। শুধু শীতকাল নয়, সারা বছরই হালকা গরম পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সম্পর্কিত