শরীরের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করতে খাদ্যতালিকায় ডিম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে সমৃদ্ধ ডিম শরীরের টিস্যু গঠন, মাংসপেশি শক্তিশালী করা এবং শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। তবে প্রতিদিন চারটি ডিম খাওয়া সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে চারটি ডিম খেলে শরীর পায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, যা মাংসপেশি গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে। ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং লিভার সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডিমের কুসুমে থাকা ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হাড় মজবুত করে এবং ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের রেটিনা সুরক্ষিত রাখে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ডিম দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
তবে অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ডিমের কুসুম কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। একসঙ্গে চারটি ডিম খেলে গ্যাস, অম্বল বা হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যাদের ডিমে অ্যালার্জি আছে।
রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল বা মাখনে ভাজা ডিম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিডনির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এমন ব্যক্তি, অ্যাথলেট বা জিমে নিয়মিত অনুশীলনকারীরা তুলনামূলকভাবে চারটি ডিম খেতে পারেন। যাদের কোলেস্টেরল স্বাভাবিক এবং কোনো অ্যালার্জি নেই, তারা পরিমিতভাবে ডিম খেতে পারেন।
অন্যদিকে যাদের হৃদরোগ, কোলেস্টেরল সমস্যা বা কিডনির রোগ রয়েছে, তাদের প্রতিদিন ডিম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।