লক্ষ্মীপুরে সড়কের ইট বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মাসুদ রানা। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সড়কের ইট বিক্রি করলেন ইউপি সদস্য’ শিরোনামে সংবাদ ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য মো. মাসুদ রানা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, হাজিরপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চৌপল্লী-আলাদাদপুর সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫১০ মিটার। এর মধ্যে প্রায় ১৭০ ফুট অংশে ইটের সলিং রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সড়কটি পাকাকরণের জন্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।
মাসুদ রানা বলেন, সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রায় পাঁচ মাস ধরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেনি। এ কারণে ইটের সলিং থাকা অংশে কাদা জমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
তার দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলের সুবিধার জন্য সড়ক থেকে ইটগুলো তুলে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখেন। তবে একটি মহল এসব ইট বিক্রি করা হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাস্তবে সড়কের ইটগুলো এখনো রাস্তার পাশেই রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন ও আব্দুর শহীদ সড়ক থেকে ইটগুলো তুলে পাশে রেখেছেন। তিনি কোনো ইট বিক্রি করেননি বলে দাবি করেন।
ইউপি সদস্য আরও বলেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন ও আব্দুল্লাহ ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাসুদ রানা এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রেখেছেন।
তাদের দাবি, একটি চক্র ইউপি সদস্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সড়কের ইট বিক্রির অভিযোগ ছড়াচ্ছে। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।