লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫ সালে এক হাজার ৮১৯ জন প্রসূতি মায়ের ঝুঁকিমুক্ত নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে ৪২ জন প্রসূতিকে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশিষ মজুমদারি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালের অনুমোদিত ছয়টি মিডওয়াইফ পদ শূন্য থাকলেও চিকিৎসক ও নার্সদের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারি সেবা জোরদার হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে সুফলভোগীদের মধ্যে। তবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তীব্র সংকটের কারণে রোগীরা অনেক সময় নোংরা ও অস্বস্তিকর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডা. কামনাশিষ জানান, বর্তমানে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩১ হলেও নিয়মিত ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন, যার ফলে বেড ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দেয়। এই অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
হাসপাতালে ১২টি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ৬টি শূন্য, ৯টি জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ শূন্য রয়েছে। ৩০ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৭ জন। অনুমোদিত ৬টি মিডওয়াইফ পদের কেউ কর্মরত নেই। এছাড়া ৫ জনের মধ্যে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীও কর্মরত নেই।
ডা. কামনাশিষ মজুমদারি মনে করেন, হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে এই সংকট অনেকটাই কাটানো সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুহার আরও কমবে এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ‘নিরাপদ মাতৃত্ব’ নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।