লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সাড়ে চার লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল দীর্ঘদিনের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোগীরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৫০ শয্যার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে হাসপাতালটি চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই। ফলে প্রতিদিন আউটডোরে ৭০০ থেকে ৮০০ এবং ইনডোরে প্রায় ১৩০ রোগী চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
রোববার রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের ভেতরে দেখা যায় ১০৩ জন রোগী গাদাগাদি অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা না পেয়ে অনেকেই মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়, আর মোবাইল ফোনের টর্চলাইটই ভরসা হয়ে ওঠে।
রোগীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকায় গরমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন নার্স তিন শিফটে পুরো হাসপাতাল সামলাচ্ছেন। পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বও একজন বৃদ্ধ কর্মচারীর ওপর নির্ভরশীল।
২০০৪ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হলেও ২০১২ সালে ভবন নির্মাণ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হয়নি। বারবার চিঠি দিলেও দীর্ঘ ২০ বছরে সংকটের কোনো সমাধান হয়নি।
বর্তমানে নার্স থাকার কথা ৪৫ জন হলেও আছেন মাত্র ১৯ জন। সুইপার, ওয়ার্ড বয়, আয়া ও নৈশপ্রহরীর ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় ঘাটতি। এমনকি হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র দুটিতে চিকিৎসক থাকলেও বাকি সাব-সেন্টারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও সহায়ক কর্মী নেই। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, বাথরুমের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মশার উপদ্রব ও ওষুধ সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে। অনেক রোগীই হাসপাতাল থেকে সংক্রমিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকটই মূল সমস্যা। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।