লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নে রেশমা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে উপজেলার ৭ নম্বর দিঘলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হরিভল্লবপুর গ্রামের তমিজ উদ্দিন পলোয়ান (প্রকাশ চৌকিদার) বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে সৌদি আরবপ্রবাসী ফখরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে রেশমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আশরাফুল (৮) ও আরাফ (৪) নামে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। ফখরুল ইসলাম বাবু দিঘলী ইউনিয়নের হরিভল্লবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
রেশমা আক্তার নোয়াখালী সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাওলানা নুরুল ইসলামের মেয়ে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রেশমাকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করতে তার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসান হাবীব ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের বাবা মাওলানা নুরুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে রেশমা আক্তারের মরদেহ তার বাবার বাড়িতে দাফন করা হবে।
এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।