সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই নোটিশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে এ আইনি নোটিশ পাঠান।
আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া বলেন, ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় নির্ধারিত তারিখের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জনের মধ্যেই শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অংশ নেবেন পৌনে ১১ লাখেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই সদস্যকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যা অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দাবি করেছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য, প্রতারক চক্র চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। অর্থাৎ প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করছেন।