ডাকসু থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সর্বমিত্র চাকমার

স্টাফ রিপোর্টার
ডাকসুর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ছবি: সংগৃহীত
ডাকসুর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। একই সঙ্গে শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র মাঠে বহিরাগত কিশোরদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪৪ মিনিটে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সর্বমিত্র চাকমা।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। এ সিদ্ধান্ত কোনো ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয়। তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাঁকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, তা তিনি পূরণ করতে পারেননি। প্রশাসনের অসহযোগিতা ও ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি পদত্যাগ করছেন।

শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। বহিরাগতদের দ্বারা নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ঘটনার অভিযোগ নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বারবার এসব বিষয়ে প্রশাসনকে জানালেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দেখা যায়নি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সর্বমিত্র চাকমা অভিযোগ করেন, বহিরাগতরা নিয়মিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করে। নিষেধ করলে তারা স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়, যা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে গিয়ে তিনি কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হন। এটি কোনোভাবেই তাঁর কাম্য আচরণ ছিল না। তিনি স্বীকার করেন, এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত হয়নি এবং এ ঘটনার জন্য তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

সম্পর্কিত