নতুন পাঠ্যবই প্রণয়নের ক্ষেত্রে অতীতের ভুল, দুর্বলতা ও নেতিবাচক চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে মানসম্মত, নির্ভুল ও শিক্ষার্থীবান্ধব বই তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আয়োজিত নতুন পাঠ্যবইয়ের ভ্যালিডেশন (যাচাই) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতের নানা ভুল, দুর্বলতা ও নেতিবাচক চর্চার ধারাবাহিকতা আর বহন করা যাবে না। পরিবর্তিত বাস্তবতায় শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে এবং সে লক্ষ্যেই বর্তমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত করা চারটি পাঠ্যবইয়ের পাণ্ডুলিপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এসব পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা করে মতামত দেবেন। পরে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বইগুলো চূড়ান্তভাবে ভ্যালিডেশন করা হবে।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞ ও টিম লিডারদের বইগুলো আরও প্রাণবন্ত, সহজবোধ্য এবং শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে তুলতে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে পাণ্ডুলিপি গভীরভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান তিনি।
এনসিটিবির প্রতি নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বইয়ের ছাপা, কাগজ ও মলাটের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। প্রচ্ছদ ও অলংকরণ এমন হতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করবে এবং শেখার আগ্রহ বাড়াবে। এ বিষয়ে ছাপাখানা ও কাগজশিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে পাঠ্যবইয়ে অসংখ্য বানান ও সম্পাদনাগত ভুল ছিল, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দলগতভাবে কাজ করায় এ ধরনের ত্রুটি এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর আগামী ১ আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় যেসব শিক্ষণ-পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যবই প্রণয়নই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞ, লেখক ও সংশ্লিষ্টদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যবই তৈরি করা সম্ভব হবে। পরে তিনি নতুন পাঠ্যবইয়ের ভ্যালিডেশন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।